
কালিয়াকৈর-শম্ভুগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন চালু: বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন দিগন্ত
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৪

মাঠে কাজ করা অবস্থায় কৃষকরা। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সারাদেশে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এতে ঋণের বোঝা থেকে স্বস্তি পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা আর খেলাপি হওয়ার কারণে নতুন করে ব্যাংকঋণ না পাওয়ার সংকটে থাকা এসব কৃষকদের ঋণের সুদসহ মোট ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সরকার।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজার মন্দায় জর্জরিত প্রান্তিক চাষিরা ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন উদ্যমে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করছেন। সরকারের এই পদক্ষেপে চড়া সুদের মহাজনি দাদন ব্যবসার শৃঙ্খল ভেঙে কৃষকরা পুনরায় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ধারায় ফিরে আসছেন, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহণকারী এসব কৃষকের মূল ঋণের ওপর যত টাকাই সুদ বা বকেয়া জমা হয়েছে, এর সম্পূর্ণ আসল ও সুদ মওকুফ করেছে সরকার। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও কৃষকবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচিকে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বড় উপহার। এ উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
খাদ্য নিরাপত্তায় দেশীয় কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।
কয়েকজন কৃষকের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে এ স্বস্তির বাস্তব চিত্র। ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তায় থাকার পর সরকারের ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
কৃষক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘১০ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে দিতে না পারায় খুব চাপের মধ্যে ছিলাম। নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে সরকার গঠন করতে পারলে তারা এই ঋণ মওকুফ করে দেবে। সরকার গঠন করার পর প্রথম কাজ হিসেবে তারা এই ঋণ মওকুফ করে দিয়েছে। আমার বিক্রি করার মতো কিছুই নেই। কোনোভাবেই এই ঋণ শোধ করতে পারতাম না। সরকার আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
দেশব্যাপী এ কর্মসূচির সিংহভাগ সুবিধা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটি মোট ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন প্রান্তিক কৃষকের ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।
বাকি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৮০৩ জন কৃষক রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এই সুবিধা পেয়েছেন। তাদের অনুকূলে বাকি প্রায় ৭৪৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা মওকুফ নিশ্চিত করেছে সরকার।
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আসল ও সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ প্রক্রিয়াটি মূলত সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে একটি নির্দিষ্ট দাপ্তরিক নীতিমালার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ কৃষকদের যেন কোনো বাড়তি হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেজন্য এই প্রক্রিয়াটি ব্যাংকগুলো সরাসরি পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এরই প্রেক্ষিতে দেশে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণ প্রবাহ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের অর্থ সরকার সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থায়নে নিয়োজিত স্থানীয় ব্যাংক শাখা ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট দূর হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।