
সব ধর্মের অংশগ্রহণে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২:৫০

মরদেহ আসার খবরে স্বজন আর স্থানীয়দের ভিড়। ছবি: সময় সংবাদ
‘মা আগামীকাল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো’- মায়ের সঙ্গে এ কথাই শেষ কথা ছিল সেনা সদস্য তিতাস শেখের ৷ এই স্মৃতি যেন সারাক্ষণ তাড়া করছে মা রেখা বেগমকে। সন্তানের শোকে পাগলপ্রায় তিনি। স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্বামীকে হারিয়ে। ছেলেকে হারিয়ে বাবা আফজাল শেখের মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না।
এভাবেই মা-বাবা, স্ত্রী, স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী আর সেনাসদস্যদের অশ্রুজলে চির বিদায় জানানো হয়েছে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখকে (২৮)। নানীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় জানাজা নামাজ, গার্ড অব অনার ও সামরিক সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে দাফন করা হয় তাকে। আগেরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড়ে অভিযানকালে মানবপাচারকারীদের গুলিতে নিহত হন তিনি। তার এমন মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।
নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আফজাল শেখের ছেলে। পরিবারের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মেজো সন্তান ছিলেন তিনি। তার বাবা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং তার ছোট ভাই আকাশ শেখও সেনাসদস্য হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন তিতাস শেখ। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। এরমধ্যে গত দুইমাস ছুটি কাটিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ফিরে গিয়েছিলেন। এছাড়া চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় তিতাস শেখের। কোনো সন্তান নেই তাদের। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে তার কর্মস্থলে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি বুলেট থামিয়ে দিল পথ চলা।
স্বামীকে হারিয়ে সুমাইয়া আক্তার শুধুই বিলাপ করে বলছেন- ‘আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকব! আমার কোনো অস্তিত্ব রইলো না! আল্লাহ, আমি এখন কি করব!’
অপরদিকে শোকে পাগলপ্রায় মা রেখা বেগমও। তার ভাষ্যমতে, গত বুধবার রাতে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল তার। তিতাস তখন বলেছিল- ‘আগামীকাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা। কিন্তু তার এমন কথা ছিল শেষ কথা তা ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেনি মা রেখা বেগম। সন্তানের নিহতের খবর পাওয়ার পর থেকে শুধুই বিলাপ করে যাচ্ছেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলাকালে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। তার বুকের বাম পাশে গুলি লাগে। পরে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে নেয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।