
কমনওয়েলথ বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০

বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফ। ফাইল ছবি
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে৷
রোববার (২৫ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-১ এ এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।
ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সময় বিমানবাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। সবশেষ বিমান বাহিনীর সদর দফতরের ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন সাইফুর রহমান।
এদিন, জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবরে ৩৩ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আজ তাকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া, জুলাই আন্দোলনে উস্কানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত ও সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে। আজ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা যায়, ২৩ আগস্ট বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন (২৫ অক্টোবর) ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
ওই সময় বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। ওইদিন গুমের মামলার আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে জামিন চান আইনজীবী তাবারক হোসেন।
শুনানিতে তাবারক বলেন, ২০০৩ সালে বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন সাইফুর রহমান। তিনি একজন চৌকস কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ নেই। এমনকি অনেক আসামি পালিয়ে গেলেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
পুর্বনির্ধরিত তারিখ অনুযায়ী এদিন সকালে বিমান বাহিনীর একটি মাইক্রোবাসে করে সাইফুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে তাকে হাজতখানায় রাখা হয়। গত ৯ আগস্ট তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-১। গত ২৬ জুলাই রাতে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) সাইফকে তার বাসা থেকে আটক করে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে গুম হন সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী। এরপর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ওইসময় ইলিয়াস সিলেট বিভাগে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। সিলেট-২ আসন থেকে তিনি দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাইফুর রহমান এ মামলায় সর্বশেষ অভিযুক্ত ব্যক্তি। এর আগে ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার করা হয়।