
কৃষিঋণ মওকুফে ১৪ লাখ কৃষকের মুখে হাসি, অর্থনীতিতে নতুন গতি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৩

পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ট্রলারে করে টনকে টন ইলিশ মাছ আনা হয়েছে। ছবি: সময় সংবাদ
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই সমুদ্র থেকে ইলিশবোঝাই ট্রলার ফিরছে ঘাটে। পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নামছে টনকে টন মাছ। তবে এসব ইলিশের বড় একটি অংশ পচা কিংবা অর্ধপচা। জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সমুদ্রে মাছ শিকার করেছেন তারা। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান আর বরফ সংকটে নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ।
একেকটি ট্রলারকে মাছ শিকারের জন্য টানা সাত থেকে দশ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে হয়। অথচ নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শত শত ট্রলার ইলিশবোঝাই হয়ে ঘাটে ফিরেছে। তাহলে কি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অবাধে সমুদ্রে শিকার হয়েছে ইলিশ?
সমুদ্র থেকে ফিরে আসা জেলেদের কেউ কেউ বলছেন, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে ম্যানেজ করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মাছ শিকার করেছেন। ট্রলার ইলিশে পূর্ণ হলেও নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় সমুদ্রেই ছিলেন তারা। তবে দীর্ঘদিন মাছ সংরক্ষণের পর্যাপ্ত বরফ না থাকায় পচে গেছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। কোনো কোনো ট্রলারে পচন ঠেকাতে মাছ কেটে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণের চেষ্টাও করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও একশ্রেণির জেলের মাছ শিকারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মৎস্যজীবীরা। তাদের দাবি, প্রশাসনের উদাসীনতা ও প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় একটি চক্র নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করেছে। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা মেনে ঘাটে অবস্থান করা সাধারণ জেলেরা পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে। এতে মা ইলিশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্য যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন নিয়ম মেনে চলা জেলেরা।
তবে কোস্টগার্ডকে ম্যানেজ করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সমুদ্রে মাছ শিকারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাহিনীর মিডিয়া কর্মকর্তা। কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. সালমান, বলেন টাকা নিয়ে ম্যানেজ হয়ে জেলেদের মাছ শিকারের সুযোগ দেয়া হয়েছে- এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়। তবে রাতের আঁধারে পালিয়ে সাগরে যেতে পারে। আমাদের অভিযান প্রতিদিনই ছিল। তারপরও যেহেতু বিশাল বড় জায়গা, অনেকগুলো ঘাট। এতগুলো ঘাটে একসঙ্গে অভিযান করা বা নজরদারি করা কঠিন বিষয়। তাই এ সুযোগে পালিয়ে কেউ সাগরে যেতে পারে। তবে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজের অভিযোগ অসত্য।
ডিম ছাড়ার জন্য প্রজনন মৌসুমে সাগরের লোনা পানি ছেড়ে নদীর মিঠাপানিতে আসে মা ইলিশ। এ সময় নির্বিঘ্নে প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর ২২ দিনের জন্য নদী ও সাগরে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। এবার ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছিল এ নিষেধাজ্ঞা।