
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪৯

গোল্ডেন পাসপোর্ট এই কর্মসূচির আওতায় বিদেশিদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ গ্রহণ বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা সরকার। ছবি: সংগৃহীত
‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ নামে পরিচিত এই কর্মসূচির আওতায় বিদেশিদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ গ্রহণ বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা সরকার।
অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের ক্ষেত্রে লাতিন আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ আর্জেন্টিনা ব্রাজিল ও মেক্সিকোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল।
মুক্তবাজার অর্থনীতির কট্টর সমর্থক মিলেই আর্জেন্টিনাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে এবং সরকারের কমতে থাকা ডলার রিজার্ভ বাড়াতে সরকারি ব্যয় কমিয়েছেন, অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছেন এবং বাণিজ্যিক বাধা দূর করেছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ‘বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব’ কর্মসূচিটির ঘোষণা দেয়া হয়। ঋণে জর্জরিত, আর্জেন্টিনার অর্থনীতিতে, নতুন করে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই এর মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
এ কর্মসূচিতে আর্জেন্টিনার পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য দুটি ‘সহজ ও স্বচ্ছ পদ্ধতি’র প্রস্তাব করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আর্জেন্টিনার জাতীয় কোষাগারে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার সরাসরি ও ফেরতযোগ্য নয়—এমন অর্থ প্রদান করতে পারেন। অথবা এ উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে তৈরি ৮ লাখ ডলারের সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরাও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এজন্য কোষাগারে ১ লাখ ডলার দিতে হবে। তবে ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানদের ক্ষেত্রে এই অর্থের পরিমাণ হবে ২৫ হাজার ডলার।
আর্জেন্টিনা সরকার বলেছে, ‘প্রাপ্ত অর্থ দেশটির রাজস্ব ও আর্থিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিনিয়োগ কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে, যা অর্থের উৎস ও গতিপথ নিশ্চিত করা, অর্থ পাচার রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার নিশ্চয়তা দেবে।
তবে কোনো কোনো অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এই কর্মসূচি কী ধরনের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
মিলেই-এর সমালোচক হিসেবে পরিচিত অর্থনীতিবিদ পাবলো তিগানি বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে মাদক পাচারকারীর মত অনেকে এখানে চলে আসতে পারে, যাদের অন্য কোনো দেশে প্রবেশের অনুমতি নেই।’
তথ্যসূত্র: গালফ টুডে