
দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ও আধুনিক প্রদর্শনীতে সেজেছে মক্কার হেরা জাদুঘর
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৬

কৃষকের মাঠে দোল খাওয়া সোনালি ফসল এবার শিল্পের রূপ পেয়েছে খুলনার বাগমারা তেঁতুলতলা এলাকার পূজামণ্ডপে। ছবি: সময় সংবাদ
দূর থেকে দেখলে মনে হয় সোনালি আবরণে মোড়ানো দুর্গাপ্রতিমা। কাছে গেলে চোখে পড়ে সেই সাজের রহস্য, মাটির অবয়বে সযত্নে বসানো একটি একটি পাকা ধানের শীষ। কৃষকের মাঠে দোল খাওয়া সোনালি ফসল এবার শিল্পের রূপ পেয়েছে খুলনার বাগমারা তেঁতুলতলা এলাকার পূজামণ্ডপে।
তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরে এবারের দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা সাজানো হয়েছে পাকা ধানের শীষে। নির্মাণ ও রঙের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা। ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তরা।
প্রতিমা তৈরিতে সময় লেগেছে এক মাসেরও বেশি। প্রথমে খড় ও মাটি দিয়ে গড়ে নেওয়া হয়েছে অবয়ব। এরপর পোলাওয়ের চাল হয় এমন লম্বা জাতের ধানের পাকা শীষ একটি একটি করে বসানো হয়েছে প্রতিমার গায়ে। শীষের বিন্যাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সাজের নকশা। সূক্ষ্ম কারুকাজ আর সোনালি আভায় প্রতিমা পেয়েছে ভিন্ন রূপ।
স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের এলাকায় প্রতি বছর বড় আকারেই পূজার আয়োজন হয়। তবে এবার ব্যাতিক্রমী আয়োজন। পূজা শুরুর আগেই প্রোয় প্রতিদিনই দেবী দর্শনে আসি। খুবই আনন্দ হয় দেখতে হয়। এবারের পূজাটা ভালো কাটবে বলে আশা করি।’
প্রতিমা দেখতে আসা ভক্ত মিতা রানী দাস বলেন, ‘প্রতিবছরই প্রতিমা দেখি। তবে ধানের শীষের এমন সাজ আগে দেখিনি। আমাদের চেনা ফসলকে এত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে, দেখতে খুব ভালো লাগছে।’ আরেক দর্শনার্থী প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘এই আয়োজনে গ্রামের কথা, কৃষকের কথা মনে পড়ে। পূজা শুরু হলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আবার দেখতে আসব।’
আয়োজকেরা জানান, প্রতিবছরই পূজামণ্ডপে নতুন কিছু তুলে ধরার চেষ্টা থাকে তাঁদের। এবার সেই ভাবনার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে কৃষি, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও কৃষকের ঘরে তোলা সোনালি ফসল।
খুলনার তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের সভাপতি রঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবারের মায়ের আগমনে ভালো ফলনের প্রত্যাশা রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা পাকা ধানের শীষে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এর মধ্য দিয়ে কৃষি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যও তুলে ধরতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যত্ন নিয়ে প্রতিমার কাজ করা হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিদিনই মানুষ দেখতে আসছেন। পূজার দিনগুলোতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও দর্শনার্থী আসবেন বলে আশা করছি।’
আয়োজকদের প্রত্যাশা, উৎসবের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি এই আয়োজন দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরবে কৃষকের শ্রম এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক।