
দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ও আধুনিক প্রদর্শনীতে সেজেছে মক্কার হেরা জাদুঘর
মুফতি জাকারিয়া হারুন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪৯

ফাতিমা (রা.) ও আলি (রা.)-এর বিয়েতে যে দেনমোহর ছিল-- তাই মোহরে ফাতেমি। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে মোহর। মোহর নারীর অধিকার। মোহর পরিশোধ করা ইসলামের বিধান। মোহর শুধু একটা অঙ্ক ধরে রাখার নাম নয়। তা পরিশোধ করে দিতে হবে। মোহরের মূল উদ্দেশ্য, নারীকে সম্মান ও মর্যাদা দেয়া। যখন কোনো পুরুষ স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে আসবে, তখন তাকে মর্যাদার সঙ্গে আনবে। এমন কিছু উপহার দেবে, যা তার মর্যাদা বাড়ায়।
মোহর এতো অল্প নির্ধারণ না করা যাতে মর্যাদার কোনো ইঙ্গিত না থাকে। আবার এতো অধিকও নির্ধারণ না করা, যা পরিশোধ করা স্বামীর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ কন্যা হজরত ফাতিমা (রা.)-কে হজরত আলি (রা.) সঙ্গে বিয়ে দেয়ার সময় যে দেনমোহর নির্ধারণ করেছিলেন, তাকেই মোহরে ফাতেমি বলে।
মোহরে ফাতেমির বর্তমান বাজার মূল্য
হজরত ফাতিমা (রা.) ও হযরত আলি (রা.)-এর বিয়েতে মোহর হিসেবে দিয়েছিলেন ৫০০ দিরহাম। আধুনিক হিসেবে ১৩১.২৫ তোলা বা ১.৫৩০৯ কিলোগ্রাম রূপা। এক দিরহামের ওজন হলো ৩.০৬১৮ গ্রাম। বর্তমান বাজারে প্রতি তোলা রূপার মূল্য ২ হাজার ৬৮৩ টাকা হলে মোহরে ফাতেমির মূল্য হবে ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৪৪ টাকা। তবে মনে রাখতে হবে, বিভিন্ন সময় রূপার দাম ওঠানামা করে। তাই, অবশ্যই যখন যেমন দাম হবে সে অনুযায়ী কম বেশি হবে।
বিয়ের সময় মোহরে ফাতেমি দেয়া আবশ্যক নয়। কোনো স্বামীর যদি মোহরে ফাতেমি নির্ধারণের মতো আর্থিক সচ্ছলতা না থাকে তাহলে তার সামর্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। স্বামীর সামর্থ্যের বাইরে মোহর ধার্য করা ইসলামের শিক্ষা বহির্ভূত। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
সাবধান, তোমরা নারীদের মোহরানা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। যদি মোহরানা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা দুনিয়াতে সম্মানের বিষয় হত কিংবা মহান আল্লাহর কাছে তাকওয়া হত তাহলে তোমাদের নবী তা করতেন। (তিরমিজি, হাদিস : ১১১৪)