
কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আসআদুর রহমান কাসেমীর ইন্তেকাল

উমর মিতা
বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম, চীনের মুসলিমদের সংস্পর্শে এসে ইসলাম গ্রহণ, জীবনের বড় অংশ ব্যয় করেন জাপানি ভাষায় কোরআনের অর্থ অনুবাদে।
জাপানি ভাষায় পবিত্র কোরআনের প্রথম অনুবাদক হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন উমর মিতা। ইসলাম গ্রহণের আগে তার নাম ছিল রিওইচি মিতা। ১৮৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাপানের ইয়ামাগুচি প্রিফেকচারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী একটি সামুরাই ঐতিহ্যের পরিবারে বেড়ে ওঠা মিতার জীবনের মোড় ঘুরে যায় চীনে ভ্রমণের পর।
চীনে অবস্থানকালে তিনি সেখানকার মুসলিম সম্প্রদায়ের সংস্পর্শে আসেন। মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস, জীবনাচার, মূল্যবোধ ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব তাঁকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। ধীরে ধীরে ইসলামের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে। তিনি ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন, জাপানি মুসলমানদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং ইসলামের বিভিন্ন শিক্ষা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন।
দীর্ঘ অধ্যয়ন ও অনুসন্ধানের পর ১৯৪১ সালে ৪৮ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন রিওইচি মিতা। নতুন জীবনে তিনি উমর নাম ধারণ করেন। এরপর নিজের জীবনের বড় একটি অংশ ব্যয় করেন ইসলামের শিক্ষা অর্জন, প্রচার ও মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নয়নে।
১৯৫৭ সালে তিনি পাকিস্তান সফরে যান। সেখানে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আরবি ভাষা শেখার প্রতিও বিশেষ মনোযোগ দেন। ১৯৫৮ সালে পবিত্র হজ পালন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে জাপান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিতীয় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তবে উমর মিতার জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান জাপানি ভাষায় পবিত্র কোরআনের অর্থ অনুবাদ। তাঁর আগে অমুসলিম কয়েকজন গবেষক জাপানি ভাষায় কোরআনের অনুবাদ প্রকাশ করলেও মুসলিম হিসেবে প্রথমবারের মতো এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
১৯৬০ সালের দিকে তিনি কোরআনের অর্থ অনুবাদের কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ আট বছরের প্রচেষ্টায় ১৯৬৮ সালে অনুবাদের পাণ্ডুলিপি সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে ইসলামি বিশেষজ্ঞ ও আলেমদের মাধ্যমে তা পর্যালোচনা ও সংশোধন করা হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে ১৯৭২ সালের ১০ জুন জাপানে অনুবাদটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৯ বছর।
উমর মিতার এই অনুবাদ জাপানি ভাষাভাষী মুসলমানদের জন্য কোরআনের অর্থ বোঝার নতুন সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি জাপানের সাধারণ পাঠকদের কাছেও ইসলামের মূল শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তাঁর এই উদ্যোগ।
ইসলামের প্রতি গভীর অনুরাগ, দীর্ঘ অধ্যবসায় এবং জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে উমর মিতা প্রমাণ করেছেন, সত্যের সন্ধানে বয়স কিংবা পারিবারিক পরিচয় কোনো বাধা নয়। জীবনের শেষভাগে এসেও তিনি যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে কোরআনের অর্থ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছেন, তা জাপানে ইসলামি সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সূত্র: আরব নিউজের