
গড়াই নদীতে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণে প্রশাসনিক ব্যবস্থার নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০

সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ফাইল ছবি
জাতির বৃহত্তর স্বার্থ ও অগ্রযাত্রাকে প্রাধান্য দিয়ে বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রণয়ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, পোর্ট ব্যবস্থাপনা কৌশল অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। কৌশল হতে হবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থ ও অগ্রযাত্রাকে মাথায় রেখে। আমাদের মধ্যে একটা কর্তৃত্ব ভাব আছে, যারা সরকারি কাজ করছেন তাদের মধ্যে। অনেকগুলো মন্ত্রণালয়, সংস্থা এর সঙ্গে যুক্ত, আমরা যেন সেখানে সুযোগ না খুঁজি। এদের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে জটিলতা বাড়তে পারে। আমাদের অমিত সম্ভাবনা আছে বন্দরগুলোকে ব্যবসাবান্ধব করার। সমন্বিত চেষ্টা যেন প্রাধান্য পায়।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, শত বছরের এই ঐতিহ্যকে স্থায়ী অর্থনৈতিক কাঠামোতে নিয়ে আসা এবং বন্দর সংশ্লিষ্টদের সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরির জন্য সঠিক কোনো পোর্ট স্টাডি বা গোছানো উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। অবকাঠামোগত সমস্যা ছাড়াও নতুন কিছু বা পরিবর্তনের সঙ্গে পরিচিত হতে গেলে সমাজের একটা অংশ কিছুটা অস্বস্তি ও পেছনের দিকে সরে যাওয়ার মানসিকতায় ভোগে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধারণা করা সব সমস্যাকে একটি সমন্বিত সমাধানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে বন্দর কেন্দ্রিক কাজ করলে শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষগুলোর সুযোগ-সুবিধা সামনে চলে আসবে। শীর্ষ ৫টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি বিশ্বের ৮০ শতাংশ কন্টেইনার টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা করে। তার তিনটিই আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। একটা শুভক্ষণের জন্য বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে। জাপান দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু, রাজনৈতিক আধিপত্যবাদ ছাড়াই তারা বাংলাদেশের সঙ্গে আছে।
জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাশাহী জুনকো বলেন, বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে, তখন বৈশ্বিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা, বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং বিশ্ব সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য দক্ষ বন্দর ও লজিস্টিকস সিস্টেম জরুরি। জাতীয় বন্দর কৌশল দেশের বন্দর খাতের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও ব্যাপক কাঠামো তৈরি করে। এর মধ্যে সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর এবং স্থলবন্দর সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাইকার টেকনিক্যাল কো-অপারেশন প্রজেক্ট এবং মাতারবাড়ি বন্দরের অপারেশন, মেইনটেন্যান্স ও ম্যানেজমেন্টের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় এটি তৈরি হয়েছে। এতে জাইকা এক্সপার্ট টিম এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ছিল। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কার্গো বা পণ্যের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চাহিদা মেটাতে শুধু বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং দক্ষ অপারেটর, কৌশলগত কানেক্টিভিটি, অধিকতর ডিজিটালাইজেশন এবং বন্দর, সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে।