
বর্জ্য অপসারণে চাঁদা দাবি, গুলশান সোসাইটি অফিসে বসল পুলিশি পাহারা
প্রতিবেদক, নোয়াখালী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮

আবদুল কাদের মির্জা, তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুল ও ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিক। ছবি: সংগৃহীত
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুল ও ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তাদের বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর নোয়াখালীতে অবস্থিত দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো রুজু করা হয়। তিনটি মামলারই বাদী হয়েছেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রথম মামলায় সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে তার নামে ২ কোটি ৩৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭০৪ টাকার মোট নিট সম্পদ পাওয়া যায়, যার বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস মেলে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৮৮ হাজার ১০৪ টাকার। ১৯৯৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে পৌর মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি অবৈধভাবে এসব সম্পদ অর্জন করেন।
দ্বিতীয় মামলায় কাদের মির্জার স্ত্রী গৃহিণী আখতার জাহান বকুলের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনেছে দুদক। এজাহারে বলা হয়, মূলত স্বামী আবদুল কাদের মির্জার সহায়তায় ও পরস্পর যোগসাজশে তিনি এই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ মামলায় কাদের মির্জাকেও আসামি করা হয়েছে।
তৃতীয় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে কাদের মির্জার ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের প্রমাণ মিলেছে। তিনি একজন শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও বসুরহাট বাজারে তার নামে একটি রড-সিমেন্টের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৮৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিয়োগ পাওয়া যায়, যার প্রাথমিক পুঁজির কোনো সুনির্দিষ্ট উৎস পাওয়া যায়নি। বাবার সহায়তায় অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মেলায় এই মামলাতেও কাদের মির্জাকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।
দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আর কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।