
দেশে-বিদেশে ৭৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের আদেশ, ফেরত আসবে কতটা?
শুভ খান
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫

মোবাইল ফোনে ‘ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স’ নেয়ার সর্বোচ্চ সীমা ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
মোবাইল ফোনে ‘ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স’ নেয়ার সর্বোচ্চ সীমা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হচ্ছে। যদিও গ্রামীণফোনের প্রস্তাব ছিল দুই হাজার টাকা। তবে এ নিয়ে আপত্তি তোলে রবি ও বাংলালিংক। পরে বিরোধ মিটিয়ে সর্বোচ্চ সীমা ৫০০ টাকা নির্ধারণের সমন্বিত প্রস্তাব দেয় মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব। তবে সার্ভিস ফি কত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
প্রত্যন্ত অঞ্চল কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে যখন রিচার্জের সুযোগ থাকে না, তখন তাৎক্ষণিক যোগাযোগের ভরসা মোবাইল অপারেটরদের ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স। কোনো জামানত বা বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই নির্দিষ্ট কোড ডায়াল করে অগ্রিম টকটাইম ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পান গ্রাহকরা।
২০১৯ সাল থেকে দেশের চার মোবাইল অপারেটর ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স দিয়ে আসছে। এর মধ্যে ১০ টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্স নিতে কোনো চার্জ দিতে হয় না। তবে এর বেশি অঙ্কের জন্য ২ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে প্রায় ৭ টাকা পর্যন্ত ফি নেয়া হয়।
গ্রাহকের চাহিদা বিবেচনায় চলতি বছরের মার্চে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের সর্বোচ্চ সীমা দুই হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেয় গ্রামীণফোন। তবে বাজারে প্রতিযোগিতা এবং অনাদায়ী ঋণের ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে এ প্রস্তাবে আপত্তি জানায় রবি ও বাংলালিংক।
এ অবস্থায় অপারেটরগুলোর মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে সমন্বিত প্রস্তাব দিতে অ্যামটবকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আলোচনা শেষে গত ২০ আগস্ট ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের সর্বোচ্চ সীমা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দেয় অপারেটরগুলো।
গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, ‘কারও জরুরি প্রয়োজনে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স দরকার হলে আগের সীমার মধ্যে থেকে আমরা তার চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করতে পারছি না।’
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘সীমা বাড়লে ভালো হয়। তবে আমাদের প্রতিযোগিতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। আমরা যদি সর্বোচ্চ এই পরিমাণ ব্যালেন্স দিতে পারি, অন্য অপারেটরগুলো যদি বেশি দিতে পারে, তাহলে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।’
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের সীমা অনেক বেশি বাড়িয়ে দিলে তা আদায়ের হার কম থাকে। এ কারণে আমরা সর্বোচ্চ সীমা ৫০০ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাব করেছি।’
এদিকে, ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের সার্ভিস ফি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, ‘ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সে সার্ভিস ফি কত টাকা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি মাসে পরবর্তী কমিশন সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
বর্তমানে দেশের ১৯ কোটির বেশি সিম সংযোগধারীকে ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে চার মোবাইল অপারেটর। ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের সর্বোচ্চ সীমা বাড়লে জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকদের বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।