
ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব মোবাইল অপারেটরদের
অন্তরা সেন
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:২২
পূজার কেনাকাটায় ব্যস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ছবি: সময় সংবাদ
শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর বাতাসে শিউলির সুবাস; প্রকৃতিতে জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। উৎসবের আনন্দকে ঘিরে নতুন সাজে প্রস্তুত হচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
কেউ খুঁজছেন পছন্দের শাড়ি, কেউবা থ্রি-পিস কিংবা পাঞ্জাবি। উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনছেন অনেকে। পছন্দের রং, নকশা আর পোশাকের বৈচিত্র্যে জমে উঠেছে পূজার কেনাকাটা।
এক শিশু জানায়, ‘আমি আমার জন্য পাঞ্জাবি আর মায়ের জন্য শাড়ি কিনতে এসেছি।’ আরেক শিশু জানায়, ‘আমি একটা প্যান্ট-ড্রেস কিনব, আর একটা খেলনা কিনব। পূজার জন্য পাঞ্জাবি কিনব।’
এক ক্রেতা বলেন, ‘পরিবারের সবার জন্য নতুন জামাকাপড় কিনব। অষ্টমীর জন্য প্রতিবছরই আমাদের লাল-সাদা পোশাক পরার ঐতিহ্য আছে। নিজের জন্য শুধু একটা ড্রেস কিনেছি, এবার বাচ্চাদের জন্য কিনছি।’
এবার তরুণ-তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে আধুনিক নকশার পোশাক। অন্যদিকে, ঐতিহ্য ধরে রাখতে শাড়ি ও পাঞ্জাবির প্রতিও আগ্রহ রয়েছে ক্রেতাদের। পোশাকের পাশাপাশি জুতা, গয়না ও প্রসাধনীর দোকানেও দেখা যাচ্ছে ভিড়।
এক নারী ক্রেতা বলেন, ‘শপিং প্রায় শেষ, তবে গাদোয়াল শাড়ি কেনার ইচ্ছা আছে। পূজার সঙ্গে মিলিয়ে লাল-সাদা রঙের একটা কিনতে পারি। অনেক হাঁটাহাঁটি করে বিভিন্ন প্যান্ডেল দেখতে হয়। তাই প্ল্যাটফর্ম হিল বা সাধারণ হিল হলে ভালো হয়।’
তবে মূল্যস্ফীতির চাপে গত বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা কিছুটা কম হতে পারে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা। এক বিক্রেতা বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি কিছুটা কম হবে বলে মনে হচ্ছে। এখন ১০ শতাংশ ভ্যাটও একটা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন ক্রেতা এক হাজার টাকার পণ্য কিনলে তাকে ১০০ টাকা ভ্যাট দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ, একটি শার্টের দাম পড়ে যাচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা। দুই-তিন বছর আগেও ভ্যাট ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, এখন তা ১০ শতাংশ। বিক্রির ক্ষেত্রে এটি অনেকটা প্রভাব ফেলছে।’
তবুও উৎসবের আনন্দে প্রিয়জনের জন্য নতুন পোশাক কিনছেন ক্রেতারা। তবে কেনাকাটার পাশাপাশি হিসাব মেলাতে হচ্ছে সাধ্য ও বাজেটের। এক নারী ক্রেতা বলেন, পূজার জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে এসেছি। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম অনেক বেশি মনে হচ্ছে। বাজেটের মধ্যে পছন্দের সবকিছু কেনা যাচ্ছে না। তাই অনেক কিছু বাদ দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা বলেন, পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে হচ্ছে, কিন্তু সবকিছুর দামই বেশি। একটা পোশাক কিনতেই অনেক টাকা চলে যাচ্ছে। ইচ্ছা আছে সবার জন্য ভালো পোশাক কেনার, কিন্তু সাধ আর সাধ্যের মধ্যে মিলছে না। তাই হিসাব করে, বাজেটের মধ্যে থেকেই কেনাকাটা করছি।
এদিকে, পূজার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই জমজমাট হয়ে উঠছে বিপণিবিতানগুলো। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা সারতে ভিড় করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, এর প্রভাব পড়ছে বাজার ও অর্থনীতিতেও।