
দিল্লিজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়: আটক প্রায় ৫ হাজার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:১৫

জ্ঞানেশ কুমার। সংগৃহীত ছবি
ভারতের ‘তেলাপোকা’ যুব আন্দোলন এবং বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জোরালো চাপ সৃষ্টি করছে। অভিযোগ, শতকোটি ভোটারের তালিকা যাচাইয়ের উদ্যোগের সময় ব্যাপকভাবে ভোটার তালিকায় কারসাজি করা হয়েছে। যদিও সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের পর জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সমালোচনা আরও তীব্র হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা, নিবন্ধন পদ্ধতি এবং নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার দুই ডেপুটি ১০ মাসে অন্তত ১৪টি আনুষ্ঠানিক আপত্তি তুলেছিলেন।
৬২ বছর বয়সি জ্ঞানেশ কুমার উত্তর ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি সরকারি কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৮ সালে ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবায় (আইএএস) যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৬ সালে জ্ঞানেশ কুমার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জম্মু ও কাশ্মীর-সংক্রান্ত বিভাগে যোগ দেন। তিনি জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলের খসড়া প্রণয়নে যুক্ত ছিলেন। এই আইনটির ফলেই ২০১৯ সালে বিতর্কিত অঞ্চলটির আধা-স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা বাতিল করা হয়।
২০১৯ সালেই ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যায় মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ ভেঙে ফেলা স্থানে হিন্দু মন্দির নির্মাণের পথ পরিষ্কার করে দেয়। এরপর জ্ঞানেশ কুমারকে সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা একটি দলের প্রধান করা হয়। মন্দির নির্মাণ তদারকির জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করাও ছিল ওই দলের কাজের অন্তর্ভুক্ত। চলতি বছর ওই ট্রাস্টের বিরুদ্ধে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া কয়েক মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
জ্ঞানেশ কুমার সরকারি প্রশাসনিক চাকরি থেকে অবসর নেন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। এর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার ঠিক এক দিন আগে তাকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হন। ২০২৩ সালে প্রণীত একটি নতুন আইনের অধীনে নিয়োগ পাওয়া তিনিই প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ওই আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বাছাই কমিটি থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দেয়া হয়। তার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগের বিরোধিতা করেছিলেন বাছাই কমিটির তৃতীয় সদস্য বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ২০২৩ সালের আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে দুই বিচারপতির একটি বেঞ্চ এই চ্যালেঞ্জের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন এবং প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর বেঞ্চে বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দেন।
এদিকে, বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন করছে সিজেপি। একই দাবিতে আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় দলটি। তবে এরইমধ্যে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশের একটি দল। এ ছাড়া, শুক্রবার (৯ অক্টোবার) রাতভর দিল্লি পুলিশের অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভকারী বলে সন্দেহ করা ৪০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।