
লিভার সিরোসিস হলে কী খাবেন, কী খাবেন না?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১

শিশুর ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে পড়াশোনা, নৈতিক শিক্ষা ও ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন অভিভাবকেরা। তবে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্থ ব্যবস্থাপনা বা মানি ম্যানেজমেন্ট শেখানোর বিষয়টি অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়। অথচ ছোটবেলা থেকেই অর্থের মূল্য, সঞ্চয়ের অভ্যাস এবং প্রয়োজন ও শখের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে শিখলে ভবিষ্যতে শিশুর আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থ ব্যবস্থাপনা শেখানোর জন্য শিশুর বড় হওয়ার অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং বয়স ও বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী ছোট ছোট অভ্যাসের মধ্য দিয়ে তাকে অর্থের সঠিক ব্যবহার শেখানো যেতে পারে। এতে শিশু শুধু টাকা গুনতে বা জমাতে শেখে না, বরং পরিকল্পনা করা, ধৈর্য ধরা এবং নিজের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নেওয়ার মতো দক্ষতাও অর্জন করতে পারে।
শিশুরা সাধারণত পরিবারের বড়দের দেখেই অর্থ সম্পর্কে ধারণা পায়। অভিভাবকেরা কীভাবে কেনাকাটা করেন, টাকা খরচ করেন কিংবা সঞ্চয় করেন, তা শিশুর আচরণেও প্রভাব ফেলে। তাই অর্থ নিয়ে বয়সোপযোগী আলোচনা করা এবং দৈনন্দিন জীবনের উদাহরণ দিয়ে বোঝানো গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন মনোবিজ্ঞানী এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক সুরাইয়া ইসলাম মুন্নি।
শিশুকে টাকার সঠিক ব্যবহার শেখাতে শিশুর বয়স অনুযায়ী সহজ ও সত্য কথা বলা, হাতে টাকা দিয়ে তার ব্যবহার শেখানো এবং বাবা -মা তাদের নিজেদের আচরণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর আর্থিক অভ্যাস শেখানোর চেষ্টা করতে পারেন।
টাকার সঠিক ব্যবহার শেখাতে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে-
১. শিশুকে প্রয়োজনীয় জিনিস আর শখের জিনিসের মধ্যে পার্থক্য শেখানো। এতে ছোটবেলা থেকেই শিশুর ভিতরে আত্মনিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়।
২. টাকা জমিয়ে কোন কিছু কেনা বা কোন কাজ শেষ করার পর পুরস্কার হিসেবে টাকা দেয়া হলে শিশু অপেক্ষা করতে শিখে। এর ফলে শিশুর ধৈর্য বাড়ে এবং ভবিষ্যতে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। অপ্রয়োজনে টাকা খরচের অভ্যাস হয় না।
৩. ছোট শিশুদের হাতে নগদ টাকা বা কয়েন দিয়ে শেখানো ভালো, কারণ ডিজিটাল লেনদেন চোখে দেখা যায় না। যার ফলে শিশুদের জন্য টাকার ধারণা বোঝা কঠিন হতে পারে।
৪. পরিবারের আর্থিক সিদ্ধান্তগুলো শিশুর বয়স অনুযায়ী সহজ ও সত্যভাবে শিশুকে বোঝানো যেতে পারে। তবে বড়দের আর্থিক দুশ্চিন্তার বোঝা শিশুর ওপর চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়।
শিশুর বয়স অনুযায়ী মানি ম্যানেজমেন্টের ধারণা-
সাধারণত, ২ থেকে ৩ বছর বয়সে শিশু বুঝতে শুরু করে কয়েন বা টাকা সাধারণ কাগজ বা খেলনা থেকে ভিন্ন ধরনের জিনিস। শিশুরা এই বয়সে টাকার মূল্য বুঝতে পারে না।
চার থেকে পাচ বছর বয়সের শিশুরা টাকা চিনতে শুরু করে। অর্থ্যাৎ টাকার সাথে তাদের পরিচয় করানো হলে তারা তা শিখতে পারে এবং কোনটি কত টাকা তা সনাক্ত করতে পারে। যেমন, ৫ টাকার নোট দেখে শিশু বলতে পারবে এটি একটি পাচ টাকার নোট।
৫ থেকে ৬ বছর বয়সে শিশুরা টাকার লেনদেন করা শুরু করে। শিশু টাকা দিয়ে জিনিস কেনা বুঝতে শিখে। ৭ থেকে ১১ বছর বয়সের শিশুরা টাকা জমানো শিখে এবং যোগ বিয়োগ করে লেনদেন করতে পারে। অর্থ্যাৎ জিনিস কেনার সময় নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে তা শিশুরা বুঝতে শিখে।
কৈশোরে শিশুরা পারিবারিক বাজেট প্ল্যানিং করতে পারে, জিনিসের নামসহ দামের তালিকা করতে পারে এবং মোট কত টাকা খরচ হয়েছে তা হিসেব করতে পারে। এই সময় শিশুরা ডিজিটাল লেনদেন করতে পারে।
শিশুকে যেভাবে টাকার ব্যবহার শেখাতে হবে-
১. টাকা ও কয়েন সনাক্ত করা: শিশুকে প্রথমে কোনটি কত টাকার নোট বা কয়েন তা চিনতে সহায়তা করুন। প্রয়োজনে টাকার ছবি প্রিন্ট করে লেমেনেটিং করে নিন এবং তা শিশুকে এডুকেশনাল ম্যাটেরিয়ালের মতো প্রতিদিন দেখান।
২. লেনদেন শেখার বয়সে প্রথম রাউন্ড ফিগারের টাকা যেমন, ৫ টাকা, ১০ টাকায় পাওয়া যায় এমন জিনিস শিশুকে দিয়ে কেনাবেন। অর্থাৎ শিশু টাকা দিবে ও জিনিস পাবে।
৩. ৭ বছর বয়সের পরে শিশু যখন যোগ বিয়োগ বুঝবে তখন ছোট একাউন্টের টাকা দিয়ে লেনদেন শেখানো যেতে পারে। প্রয়োজনে খেলার ছলে রোল প্লেয়ের মাধ্যমে শিশুকে লেনদেন শেখান। এই ক্ষেত্রে দোকানদার-ক্রেতার চরিত্রে রোল প্লে করা যায়।
৪. শিশুকে বাজার করার সময় সাথে রাখুন। বাজারে যাওয়ার পূর্বে কি কি জিনিস কিনতে হবে তার লিস্ট তৈরিতে শিশুর সহায়তা নিতে পারেন। জিনিস কেনার পর বাসায় ফিরে জিনিসের দামের তালিকা তৈরি করতে পারেন। নির্দিষ্ট খাতা তৈরি করে নিলে শিশু ব্যয় সম্পর্কে ধারণা পাবে।
৫. ছোটবেলা থেকে শিশুর জন্য দামি জিনিস কেনার ক্ষেত্রে শিশুকে সেভিং বা ব্যাংকে টাকা জমানোর অভ্যাস করতে পারেন। এতে শিশু টাকা ও জিনিসের গুরুত্ব বুঝতে পারবে।