
টেস্টে নতুন ইতিহাস গড়লেন লিটন দাস
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৯

জিম্বাবুয়ের সাবেক ফাস্ট বোলার ও আম্পায়ার সারাহ দাম্বানেভানা মারা গেছেন। ছবি: জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট
জিম্বাবুয়ের সাবেক ফাস্ট বোলার ও আম্পায়ার সারাহ দাম্বানেভানা সোমবার (১২ অক্টোবর) হারারেতে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৩৬ বছর।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত মার্চে একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আম্পায়ার হিসেবে তার সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু হয়। এরপর তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের বিশ্বকাপে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গঠিত সম্পূর্ণ নারী ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্যানেলের সদস্য ছিলেন।
এর আগে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ফাইনালেও আম্পায়ারিং করেন দাম্বানেভানা। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আম্পায়ারিং করা প্রথম জিম্বাবুয়ের নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন তিনি।
সব মিলিয়ে ৬৩টি সিনিয়র আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন দাম্বানেভানা। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের ৪২টি টি-টোয়েন্টি, ১১টি নারী ওয়ানডে আন্তর্জাতিক এবং ১০টি পুরুষ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এ ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক যুব টুর্নামেন্টেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত খেলোয়াড় হিসেবেও জিম্বাবুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন দাম্বানেভানা। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও খেলেছিলেন তিনি। ২০২২ সালে আইসিসির আম্পায়ারদের ডেভেলপমেন্ট প্যানেলে যোগ দেন এই সাবেক ক্রিকেটার।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের চেয়ারম্যান তাভেঙ্গা মুকুহলানি বলেন, 'সারাহ প্রথমে একজন খেলোয়াড় হিসেবে এবং পরে একজন আম্পায়ার হিসেবে অসাধারণ কৃতিত্বের সঙ্গে জিম্বাবুয়ের সেবা করেছেন। তার দক্ষতা তাকে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে দিয়েছিল। বিশ্বকাপের ফাইনালে তাকে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করতে দেখা আমাদের ক্রিকেট সম্প্রদায় ও দেশের জন্য ছিল অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। তিনি জিম্বাবুয়ের তরুণীদের দেখিয়েছেন, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাদেরও জায়গা রয়েছে, এমনকি এমন ভূমিকাতেও, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ ছিল সীমিত।
'নিজের সাফল্যের মাধ্যমে তিনি অনেকের জন্য নতুন পথ খুলে দিয়েছেন এবং অন্যদের নিজেদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। আমরা তাঁর নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব এবং অন্যদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করার মানসিকতার কথা মনে রাখব। তার মৃত্যু আমাদের ক্রিকেট পরিবারের জন্য এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। তবে তিনি যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে,'–তিনি যোগ করেন।