
দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ও আধুনিক প্রদর্শনীতে সেজেছে মক্কার হেরা জাদুঘর
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩৫

শুভ মহালয়া আজ। ছবি: সংগৃহীত
শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়া উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও পূজামণ্ডপে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ভোরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরেও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয় মহালয়ার মধ্য দিয়ে। এদিন প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় জল ও তিল নিবেদন করে তর্পণ করা হয়। একই সঙ্গে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গোৎসবের প্রতীক্ষার দিন গণনা।
পুরাণ অনুযায়ী, মহালয়ার তিথিতে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করার দায়িত্ব পান। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তিতে সৃষ্টি হয় দেবী দুর্গার। দেবতাদের অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তিনি মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। টানা নয় দিন যুদ্ধের পর দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে পরাজিত ও বধ করেন।
মহালয়া উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ছাড়াও ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির এবং জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্যান্ডেল নির্মাণ, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। উৎসব চলাকালে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেও নেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।
দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি। ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি এ উৎসব বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ধর্মীয় আচার অনুযায়ী, দুর্গোৎসবের তিনটি পর্ব হলো মহালয়া, বোধন ও সন্ধিপূজা। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা চলে। আশ্বিন মাসের এই শুক্লপক্ষকে বলা হয় দেবীপক্ষ।
দুর্গাপূজার ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিনকে সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে এবার সপ্তমী তিথি দুই দিন হওয়ায় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে মোট ছয় দিন। পঞ্জিকা অনুযায়ী, মহালয়ার সপ্তম দিন ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ছয় দিনের দুর্গোৎসব।
এরপর ১৭ ও ১৮ অক্টোবর সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর অষ্টমী এবং ২০ অক্টোবর নবমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ২১ অক্টোবর দশমীর সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব।
এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোড়ায় চড়ে। আর গমন করবেন নৌকায়।